মেহেরপুরের বিএম মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বুধবার এক ভয়াবহ অভিজ্ঞতার সাক্ষী হলো তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী সাদিয়া। বিকেল ৪টায় স্কুল ছুটির পর শিক্ষকরা ভবনের প্রতিটি ফটকে তালা লাগিয়ে চলে যান। কিন্তু সাদিয়ার উপস্থিতি খেয়াল না করায় সে বাথরুমের ভেতরে আটকা পড়ে যায়।
দীর্ঘক্ষণ অবরুদ্ধ অবস্থায় ভয়ে চিৎকার ও কান্নাকাটি শুরু করে শিশুটি। পথচারীরা সেই শব্দ শুনে থমকে দাঁড়ান এবং সাদিয়ার বাবাকে খবর দেন। খবর পেয়ে অভিভাবক ও স্থানীয়রা ছুটে এসে তালা ভাঙার চেষ্টা করেন। শেষ পর্যন্ত এক শিক্ষিকাকে ডেকে এনে কলাপসিবল গেট খুলে সাদিয়াকে উদ্ধার করা হয়।
সৌভাগ্যক্রমে শিশুটি সুস্থ আছে, যা ‘ছুটির ঘণ্টা’ সিনেমার সেই ট্র্যাজিক পরিণতির কথা মনে করিয়ে দিলেও এবার ফলাফল হয়েছে স্বস্তিদায়ক। তবে দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকদের এমন চরম গাফিলতি মেহেরপুর শহরে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
রাত ১২টায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খায়রুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে নিয়েছেন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। যদিও বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে বারবার ফোন করেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
স্কুল ছুটির পর প্রতিটি কক্ষ ও শৌচাগার তল্লাশি করা বাধ্যতামূলক। শিক্ষকদের এই সামান্য অসচেতনতা একটি শিশুর প্রাণ কেড়ে নিতে পারত। স্কুল কর্তৃপক্ষকে ভবিষ্যতে আরও দায়িত্বশীল হতে হবে যেন কোনো কোমলমতি শিক্ষার্থীকে আর এমন বিভীষিকার মুখোমুখি হতে না হয়।



